একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং পরে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর খুলে নেওয়া হলেও অবস্থার আরও অবনতি হলে পুনরায় তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। চিত্রশিল্পী,
শিক্ষক, উপস্থাপক ও পাপেট শিল্পী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। বিশেষ করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচকে আধুনিক মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলায় তার ভূমিকা ছিল অনন্য। শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ প্রদান করে। তার সৃজনশীল কর্মজীবন দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল চর্চায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। মন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।