
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর হরিদেবপুর এলাকায় এক শিক্ষকের বাড়িতে দিনের বেলায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চর হরিদেবপুরের হরিদেবপুর হাই স্কুলসংলগ্ন এলাকায় গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরুণ কুমার রায়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় বরুণ কুমার রায় ও তার স্ত্রী নিজেদের ফার্মেসিতে ছিলেন। বাড়িতে তার মেয়ে ডরথী রায় ঘুমিয়ে ছিলেন।
বরুণ কুমার রায়ের দাবি, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তিনি ও তার স্ত্রী বাড়িতে ফিরে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরের খাটের ওপর একটি দর্জির কেচি দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের ভেতর ও সিলিংয়ের পাঠাতন তল্লাশি করে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌস চৌকিদার (৩২), পিতা—মো. হারুন চৌকিদার, গ্রাম—কিসমত হরিদেবপুর-কে দেখতে পান বলে তিনি জানান।
বরুণ কুমার রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি কোনো ধরনের চিৎকার না করে নিচে নেমে আসেন। তার আশঙ্কা ছিল, চিৎকার করলে ঘরের ভেতরে থাকা ব্যক্তি তার স্ত্রী ও মেয়ের ক্ষতি করতে পারেন। পরে তিনি দেখতে পান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দৌড়ে বাড়ির গেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। এরপর তিনি ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করলে প্রতিবেশী দুর্জয় রায়, অমিতাভ রায়সহ কয়েকজন তাকে ধরার চেষ্টা করেন। তবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে বাড়ির ভেতর থেকে একটি দর্জির কেচি, একটি ছয় কাটার টেডা ও একটি টর্চলাইট পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন বরুণ কুমার রায়।
এ ঘটনায় বরুণ কুমার রায় ২৬ আগস্ট গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরদৌস চৌকিদারের বিরুদ্ধে এর আগেও চর হরিদেবপুর ও কিসমত হরিদেবপুর এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে চুরির অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেন, পূর্বে চুরির ঘটনায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক ও কারা ভোগের পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
বরুণ কুমার রায় জানান, এর আগেও তার বাড়ির তালা দুবার ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে তার একমাত্র মেয়ে ঘটনার পর থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে চর হরিদেবপুর ও কিসমত হরিদেবপুর এলাকায় রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।