পহেলগাঁওয়ে হামলার পরে সিন্ধুচুক্তি স্থগিত করেছিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছিলেন, রক্ত এবং জল একই সঙ্গে বইতে পারে না। ১৯৬০ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে ফের ভারতকে হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান। সিন্ধুর জলের ভাগ থেকে যারা ‘বঞ্চিত’ করছে, তাদের হাত কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন পাক মন্ত্রী। ইসলামাবাদের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আক্রমণ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনিই। সিন্ধুচুক্তি নিয়ে এর আগেও একাধিক বার নয়াদিল্লিকে নিশানা করেছে ইসলামাবাদ। তাতেই নতুন সংযোজন ঘটালেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মাসুদিক মালিক।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মালিক বলেন, “যারা আমাদের ভাগের জল দাবি করছে, আমরা তাদের হাত কেটে নেব।” তার পরেই সিন্ধুর জল আটকানোর জন্য মোদীকে দায়ী করে মালিক বলেন, “তিনি (মোদী) বলেছিলেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জল যেতে দেবেন না।” পাক মন্ত্রীর দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তান তাদের জলের ভাগ অক্ষুণ্ণ রাখতে দায়বদ্ধ। ভারত এই ভাবে জলের প্রবাহ আটকে দিতে পারে না বলে দাবি করেছেন তিনি। মালিকের এই মন্তব্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলিতে সম্প্রচারিত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে হামলার পরে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্তব্য করেছিলেন, রক্ত এবং জল একই সঙ্গে বইতে পারে না। ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তা ভারত স্থগিত করার পর থেকেই একাধিক অভিযোগ করে এসেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য। পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার জলে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসাবে এই চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত।