
বন্ধুত্ব কোনো নির্দিষ্ট সময় বা পরিসীমার গণ্ডিতে আটকে থাকে না; কখনো কখনো তা সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে অমর হয়ে ওঠে। আজ ৭ জুলাই, আমাদের প্রিয় বন্ধু মুশফিক রিচার্ডের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে বারবার ফিরে যাচ্ছি সেই যখন গলাচিপা হাই স্কুলের আঙিনায় আমাদের কৈশোরের সোনালী সময়গুলো কাটত। আমরা ছিলাম একই ব্যাচের সহপাঠী, একই ক্লাসরুমের সাথী। সেই সময়ের বন্ধুত্বের হাত আজও আমার হৃদয়ে এক পরম পাওয়া হয়ে আছে।
মুশফিক রিচার্ডের কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো তার মার্জিত আচার-আচরণ এবং সদালাপী স্বভাব। স্কুলজীবন থেকেই তার অমায়িক ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ ছিল সবাই। যেকোনো পরিস্থিতিতেই সে ছিল শান্ত ও সংযত, যা তাকে আমাদের ব্যাচের সবার কাছে এক বিশেষ সম্মানের পাত্র করে তুলেছিল। মানুষের সঙ্গে মেশার ক্ষেত্রে তার সেই সহজ-সরল ভঙ্গি ও সদালাপী মানসিকতা আজও অনেকের কাছে উদাহরণ হয়ে আছে।
স্কুলজীবনের সেই দুরন্ত দিনে রিচার্ড ছিল আমাদের আস্থার প্রতীক। পরীক্ষার চাপ থেকে শুরু করে কৈশোরের সব ছোট-বড় চাওয়া-পাওয়া—সবখানেই সে ছিল বন্ধুর মতো পাশে। তার অকাল প্রস্থান আমাদের এক বিশাল শূন্যতার মুখোমুখি করেছে ঠিকই, কিন্তু স্কুলজীবনের সেই ফেলে আসা স্মৃতিগুলো আজও যেন জীবন্ত হয়ে আমাদের চারপাশকে আচ্ছন্ন করে রাখে। তার সেই প্রাণবন্ত হাসি, টিফিনের সময়ের আড্ডা আর বন্ধুত্বের অকৃত্রিম টানে আজও আমি বারবার ফিরে যাই সেই গলাচিপা হাই স্কুলের বারান্দায়।
জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে বন্ধুত্বের গভীরতা আবারও যেন নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। রিচার্ড শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আজও অটুট। বন্ধু হিসেবে তার স্মৃতি আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
মুশফিক রিচার্ডের মতো মানুষ সমাজে বিরল। তার সুন্দর ব্যবহার এবং বন্ধুত্বের বন্ধন আজও আমাদের কাছে এক অনুপ্রেরণা। আজকের এই দিনে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল। যেখানেই থাকিস বন্ধু, ভালো থাকিস। তোর স্মৃতির মায়ায় আমরা আজও তোকে খুঁজে ফিরি।