
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুর সুস্থ বিকাশে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ আল-আমিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নোমান পারভেজ, মেডিকেল অফিসারবৃন্দ, নার্সিং সুপারভাইজার, নার্স ও মিডওয়াইফ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, আনসার সদস্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আভাস’-এর প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের শালদুধ খাওয়ানো এবং জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস পর শিশুকে উপযুক্ত পরিপূরক খাবার দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছর বা তারও বেশি সময় মাতৃদুগ্ধ পান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, শিশুকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো শুধু মায়ের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে বাবা, পরিবারের সদস্য, স্বাস্থ্যসেবাদানকারী, কমিউনিটি, কর্মক্ষেত্র, ধর্মীয় নেতা ও সমাজের অন্যান্য মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধের বিকল্প ও বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুখাদ্যের বিপণন নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “একটি সুস্থ, মেধাবী ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। মাতৃদুগ্ধ শিশুর সর্বোত্তম খাদ্য এবং এটি মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাতৃদুগ্ধ বিষয়ে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।