1. admin@anusandhannews.com : admin :
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাঙ্গাবালীতে জমি বিরোধে আত্মীয়ের হাতে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি গলাচিপায় ১৫ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ গলাচিপায় খেয়াঘাট দখল, চাঁদাবাজি এবং অর্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় গ্রেফতার ১ জন গলাচিপায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন রাঙ্গাবালীতে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি এক গলাচিপায় মিরন প্যাদাকে মারধর হাসপাতালে ভর্তি , যে ভালোবাসার কোনো নাম ছিল না রাঙ্গবালীধীন চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে অবৈধ ঘের করা এবং ইজারাকৃত বৈধ খাল দখলের পায়তারার অভিযোগ গলাচিপায় সত্তর বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ। কলাপাড়া ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী মিহির কুমার দে’র বিরুদ্ধে চক্রান্ত,মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে সামাজিক গণমাধ্যমে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিলের দাবি

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৯৫ বার পঠিত
ফাইল ছবি

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে দাবি করে এই সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিটকারীদের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে তিনি এসব কথা বলেন।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। গত ৬ জুলাই এই মামলার আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে মর্মে মুলতবির আদেশ দিয়েছিলেন।

সেদিন আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ৮ ডিসেম্বর আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূইয়া। শুনানিকালে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়েছেন বদিউল আলম মজুমদারের এই আইনজীবী। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীতে যদি পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে, তাহলে তো পুরোটাই বাতিল করা যায়।”

এদিকে গত ২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন আদালত।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনও প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

রায়ে আদালত আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত। রায়ে আদালত আরও বলেছেন, সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে বিধানগুলো সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এটি ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত হয়। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনও আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওই সব বা এর যেকোনও ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

পরে গত ৮ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়।

এরপর গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করা হয়। আপিল আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এই আপিল দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ অনুসন্ধান নিউজ
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park