1. admin@anusandhannews.com : admin :
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাঙ্গাবালীতে জমি বিরোধে আত্মীয়ের হাতে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি গলাচিপায় ১৫ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ গলাচিপায় খেয়াঘাট দখল, চাঁদাবাজি এবং অর্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় গ্রেফতার ১ জন গলাচিপায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন রাঙ্গাবালীতে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি এক গলাচিপায় মিরন প্যাদাকে মারধর হাসপাতালে ভর্তি , যে ভালোবাসার কোনো নাম ছিল না রাঙ্গবালীধীন চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে অবৈধ ঘের করা এবং ইজারাকৃত বৈধ খাল দখলের পায়তারার অভিযোগ গলাচিপায় সত্তর বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ। কলাপাড়া ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী মিহির কুমার দে’র বিরুদ্ধে চক্রান্ত,মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে সামাজিক গণমাধ্যমে।

পাহাড় ধসের শঙ্কায় বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৭ বার পঠিত
নাফাখুমে আটকা ৬৯ পর্যটক নিরাপদে আছেন, ফিরতে পারেননি জেলা সদরে

টানা ভারী বর্ষণের কারণে তিন পার্বত্য জেলাসহ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে স্ব-স্ব জেলা প্রশাসন লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে পাহাড় ধসে কক্সবাজারে ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসন শতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন ৬৯ পর্যটক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। সবাই সুস্থ আছেন। তবে জেলা সদরে ফিরতে পারেননি এখনো। এনিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের প্রতিবেদন_

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পর্যটক ও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের ফলে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্ধের সময়ে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এ সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, কয়েক দিনের অতিভারী বর্ষণে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে পানি জমে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পর্যটনকেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে মাতামুহুরী নদীঘাট হয়ে নয়াপাড়ার কিছু নিচু জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে, লামা বাজার হতে লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় রোডের কিছু অংশও পানির নিচে।

জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

নাফাখুমে আটকা ৬৯ পর্যটক নিরাপদে আছেন, ফিরতে পারেননি জেলা সদরে

এদিকে টানা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন ৬৯ পর্যটক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। দুর্গম এ এলাকায় এক রাত কাটিয়ে তাঁরা কাছের রেমাক্রি ইউনিয়নের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছালেও এখনো জেলা সদরে ফিরতে পারেননি। পর্যটক ও তাঁদের সঙ্গে যাওয়া লোকজনের সবাই সুস্থ আছেন।

উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে ৭৯ জন পর্যটক ও গাইড থানচি থেকে নাফাখুমে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁরা উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে পৌঁছেছেন। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল আল ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পর্যটক ও গাইডরা বর্তমানে রেমাক্রিতে নিরাপদে রয়েছেন। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা সেখান থেকে লোকালয়ের দিকে রওনা হবেন।

বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায় এই পরিমাণ বৃষ্টিকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের দায়িত্বপ্রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি ১১ জুলাই পর্যন্ত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় জলপ্রপাত নাফাখুমের অবস্থান বান্দরবান সদর থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে। এই পর্যটনকেন্দ্রে যেতে প্রথমে নদীপথ, পরে কয়েক ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। বর্ষাকালে পথটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢলে চলার পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়।

থানচি উপজেলা প্রশাসন জানায়, আটকে পড়া পর্যটকদের সহায়তার জন্য লাইফজ্যাকেটসহ একটি উদ্ধারকারী দল রেমাক্রির দিকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাইড ও পর্যটকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পানি ও বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

দু‌র্যোগ মোকা‌বিলায় প্রস্তুত খাগড়াছ‌ড়ি জেলা প্রশাসন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, টানা ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়িতে প্রকত বছরই কমবেশি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সতর্কতামূলক মাইকিংসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলার শালবন, কলাবাগান, সবুজবাগ, মাটিরাঙ্গা, ভূয়াছড়ি এবং মহালছড়ির ধুমনীঘাট এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা বেশি ঘটে। ‌ এর ফলে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চল‌তি বছর বর্ষার শুরু‌তেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগু‌লো‌তে জনস‌চেতনতা সৃ‌ষ্টির ল‌ক্ষ্যে বি‌ভিন্ন পদ‌ক্ষেপ গ্রহণ ক‌রে‌ছে জেলা প্রশাসন। এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং, সে‌মিনারের আয়োজন করা হ‌চ্ছে। ফায়ার সা‌র্ভিস ও রেড‌ক্রিসেন্টসহ বি‌ভিন্ন স্বেচ্ছাসেবকদের প‌রি‌স্থি‌তি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

খাগড়াছ‌ড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো পাহাড় ধ‌সের ঘটনা ঘ‌টে‌নি। এরইম‌ধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগু‌লো‌তে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হ‌য়ে‌ছে।

ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে নগরীতে জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে টানা অতি ভারী বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকার সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বহু দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল, কর্ণফুলীর জোয়ার মিলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশংকার কথাও জানিয়েছে। এ কারণে সোমবার সকাল থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।

নগরের পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরা, বড়পোল, কমার্স কলেজ সংলগ্ন এলাকায় হাটু থেকে কোমর সমান পানি জমেছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজন।

জলাবদ্ধতার প্রভাবে সড়কে গণপরিবহনের চলাচল কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সকালে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে বের হন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি সাগরে ৩ নম্বর সংকেত এবং জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের সতর্কতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ অনুসন্ধান নিউজ
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park