1. admin@anusandhannews.com : admin :
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাঙ্গাবালীতে জমি বিরোধে আত্মীয়ের হাতে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি গলাচিপায় ১৫ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ গলাচিপায় খেয়াঘাট দখল, চাঁদাবাজি এবং অর্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় গ্রেফতার ১ জন গলাচিপায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন রাঙ্গাবালীতে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি এক গলাচিপায় মিরন প্যাদাকে মারধর হাসপাতালে ভর্তি , যে ভালোবাসার কোনো নাম ছিল না রাঙ্গবালীধীন চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে অবৈধ ঘের করা এবং ইজারাকৃত বৈধ খাল দখলের পায়তারার অভিযোগ গলাচিপায় সত্তর বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ। কলাপাড়া ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী মিহির কুমার দে’র বিরুদ্ধে চক্রান্ত,মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে সামাজিক গণমাধ্যমে।

কেন পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংঘাত থামছে না, সমাধান কোন পথে?

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪২ বার পঠিত
কেন পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংঘাত থামছে না, সমাধান কোন পথে?

বুধবার বেলুচিস্তানে আফগান তালেবানের ছোঁড়া চারটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগেই আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল—তাদের বিমান বাহিনী বেলুচিস্তানের পিশিন জেলা এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু এলাকায় আইএস-এর ‘ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানায়, ড্রোনগুলো সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই শনাক্ত করা হয় এবং ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তির’ সাহায্যে সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়। পাকিস্তানের দাবি, এই ড্রোন হামলা প্রমাণ করে যে আফগান তালেবান এখনো ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মদদ ও সমর্থন’ দিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা এক বিবৃতিতে জানায়, পিশিন জেলায় তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্থাপনা, যা আফগানিস্তানে ‘নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও হামলার পরিকল্পনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে এই হামলায় কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।

অবশ্য, কোনো পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ২৭ জুন করাচিতে একটি আধাসামরিক বাহিনীর ক্যাম্পে বন্দুকধারীদের হামলায় ৩ জন জোয়ান নিহত হন। পাকিস্তানি তালেবানের একটি দল ‘জামাত-উল-আহরার’ এই হামলার দায় স্বীকার করে। আর যে সন্দেহভাজনকে জীবিত ধরা হয়, সে ছিল একজন আফগান নাগরিক। এর জবাবে ২৯ জুন পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের দাবি, হামলায় ২৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে তালেবান সরকারের মতে, মারা গেছে ৩৬ জন বেসামরিক মানুষ।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে আফগান ও পাকিস্তানি ভূখণ্ডে যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চলছে, এই ড্রোন হামলা তারই সর্বশেষ উদাহরণ।

এখন বড় প্রশ্ন হলো—এই ড্রোন হামলার পর পাকিস্তান কি নতুন কোনো বড় সামরিক অভিযানে যাবে, নাকি দুই প্রতিবেশী দেশ তাদের এই গভীর উত্তেজনা কমাতে আবারও কূটনীতির টেবিলে ফিরবে?

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, যা পাকিস্তানি কর্মকর্তারা কোনোভাবেই হেলাফেলা করতে পারছেন না। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে ৬৯৯টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি! আর এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১,০৩৪ জন মানুষ।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে অন্তত এক ডজন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আপাতত তারা একটি ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা’র কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন। অর্থাৎ, উগ্রপন্থী দলগুলোর সশস্ত্র হামলার কড়া জবাব দেয়া হবে, তবে আফগান তালেবান সরকারের সরাসরি হামলার বিপরীতে পাল্টা আঘাত করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেছে বেছে বা বুঝেশুনে পা ফেলা হবে।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করে পাকিস্তান। শুরু করে ‘অপারেশন গাজাব-লিল-হক’। আফগান সীমান্তে তালেবান বাহিনীর হামলার জবাবেই এই অপারেশন শুরু হয়েছিল। আর আফগানদের ওই হামলা ছিল পূর্ব আফগানিস্তানে সশস্ত্র বিদ্রোহী ক্যাম্পে পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়া।

মার্চের মধ্যে কাবুলের কাছে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ১০০-রও বেশি মানুষ নিহত হয় বলে স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা জানান। তালেবান কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

অথচ গত বছর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যা কিছুদিন টিকে ছিল। কিন্তু এরপর ইস্তাম্বুলে হওয়া ফলো-আপ আলোচনা দুই দুইবার ভেস্তে যায়।

চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের মধ্যস্থতায় উরুমকিতে হওয়া বৈঠকের পর পাকিস্তানের বিমান হামলা বেশ কমে এসেছিল। জানা গেছে, তালেবান কর্মকর্তারা টিটিপি-র বিরুদ্ধে লিখিত গ্যারান্টি দিতেও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সেই শান্তি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র দুই মাস। জুনেই আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ইসলামাবাদভিত্তিক কনসালটেন্সি ফার্ম ‘জিওপলিটিক্যাল ইনসাইটস’-এর প্রধান ফাহাদ নাবিল কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন: ‘সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা মূলত গত দুই বছর ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষেরই ধারাবাহিকতা। আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলাগুলো এখন স্রেফ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা জবাবের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু এতে উগ্রপন্থীদের হামলার সংখ্যা কমেনি। অন্যদিকে, আফগান তালেবান কর্মকর্তারাও আফগানিস্তানের মাটিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা বন্ধ করতে দৃশ্যত কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

তবে সব বিশ্লেষক এই পরিস্থিতির জন্য কেবল আফগানিস্তানকে দোষ দিচ্ছেন না। কোয়েটাভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রহিম নাসারি মনে করেন, সীমান্ত সংঘাতের আড়ালে ইসলামাবাদ আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। নাসারি বলেন: পাকিস্তান বিষয়টিকে এক ধরনের নিউ নরমাল বা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করেছে—নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করছে। হামলাকারীরা আফগান সীমান্ত থেকে ১,২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে করাচিতে চলে যাচ্ছে, পাকিস্তানের ভেতরেই বসে সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পনা করছে। তাহলে মূল প্রশ্নটা হলো—আসলে ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা ব্যর্থতাটা কার?’

নাসারি দুই সরকারের এই সম্পর্ককে দ্রুত সমাধানের চেয়ে একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তারের বা ‘লেভারেজ’ খাটানোর খেলা হিসেবে দেখছেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়ে পাকিস্তান একসঙ্গে কয়েকটি কাজ করতে চায়; সংঘাতের স্তরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা, কাবুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং দেশের ভেতরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা থেকে জনগণের মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়া। মূলত, এটি পারস্পরিক ব্ল্যাকমেইলের খেলা।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহ নিয়ে কাজ করা গবেষক রিকার্ডো আলভারেজ মনে করেন, পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে বদলাতে হলে এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যা দুই সরকারের কেউই এখন পর্যন্ত নিতে রাজি নয়। তিনি বলেন, দুই পক্ষকেই একে অপরকে দোষ না দিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো নিজেদেরই সমাধান করতে হবে।

পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে এই ভেনিসভিত্তিক বিশ্লেষক বলেন, সামরিক জবাবের পাশাপাশি পাকিস্তানকে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিতে হবে, যা তাদের নিজেদের প্রদেশগুলোতে সশস্ত্র বিদ্রোহ নির্মূল করতে সাহায্য করবে। তা না হলে সংঘাত কমার বদলে আরও বাড়বে।

একই সঙ্গে, আফগান তালেবানকেও এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে—পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি এখনো আফগানিস্তানের ভেতরেই নিরাপদ আস্তানা বজায় রেখেছে।

মোদ্দাকথা, দুই দেশকেই সংঘাতের পথ ছেড়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল ও বৈরিতা অবসানে আলোচনার পথে এগোতে হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেই শান্তির বাণী এবার নিজেদেরও আত্মস্থ করতে হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ অনুসন্ধান নিউজ
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park