
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দেশে ৭৮টি পৃথক ঘটনায় ৮৬টি শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ৩১২টি পৃথক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ৩৩৬টি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। সম্প্রতি ‘শিশুরাই সব’-এর মিডিয়া মনিটরিং প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। শিশু হত্যা ও যৌন নির্যাতনের পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন, স্থান, অপরাধীর পরিচয় এবং আইনি অগ্রগতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৭৮টি ঘটনায় মোট ৮৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে পুরো বছরে শিশুহত্যার সংখ্যা ছিল ১২৪টি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৪টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে এই গড় ছিল ১১টি।
নিহত ৮৬ শিশুর মধ্যে ৪৭টি মেয়ে এবং ৩৬টি ছেলে। তিন শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানা যায়নি। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে, এদের সংখ্যা ৪৬টি। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিশুহত্যার ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়, যেখানে ২২টি শিশু নিহত হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট ও বরিশালে ৬টি করে শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, যা বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
শিশুহত্যার ঘটনাগুলোর সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে। প্রায় ৫০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে শিশুর নিজের ঘর বা আত্মীয়ের বাসাসহ পারিবারিক পরিসরে। এ ছাড়া ৪১.১৮ শতাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাস্তা, মাঠ, বাজার বা জলাশয়ের আশপাশের মতো জনপরিসরে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শিশুর পরিচিত ব্যক্তিরাই জড়িত। বাবা-মা, সৎ বাবা-মা ও নিকট আত্মীয়সহ পরিবারের সদস্যরা ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৭টি ঘটনায় মা-বাবা এবং ১১টি ঘটনায় নিকট আত্মীয় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তিরা ২৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি শিশুহত্যার ঘটনায় অপরাধী ছিল শিশুর পরিচিত কেউ।